মনুষ্যসৃষ্ট দ্বীপে সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর নির্মাণ করছে চীন। দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে দালিয়ান জিনঝো বে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে তৈরি হচ্ছে। এতে চারটি রানওয়ে ও নয় লাখ বর্গমিটারের যাত্রী টার্মিনাল থাকবে। প্রতি বছর আট কোটি যাত্রী পরিষেবা ও ৫ লাখ ৪০ হাজার ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে বিমানবন্দরটির। চীনা সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম উইচ্যাটে কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘পূর্বাঞ্চলের সূর্যোদয়ের মতো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যেন ধীরে ধীরে উঠে আসছে দেশের বৃহত্তম অফশোর বিমানবন্দর।’ নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি হবে মানবসৃষ্ট দ্বীপে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর, যা হংকং বিমানবন্দর ও জাপানের কানসাই বিমানবন্দরের চেয়েও বড়। অত্যাধুনিক এ স্থাপনা নির্মাণে প্রকৌশলীদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। দালিয়ান এয়ারপোর্ট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলী লি জিয়াং বলেন, ‘নির্মাণকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কারণ পুরো প্রকল্প জটিল ভূতাত্ত্বিক অবস্থার মধ্যে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বেশ জটিলতার মধ্য দিয়ে খনন এগিয়ে নিতে হয়েছে। তাছাড়া স্বল্প সময়ে অধিক কাজ সম্পন্ন করার চ্যালেঞ্জ তো রয়েছেই।’ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছাকাছি হওয়ার কারণে ৭৫ লাখ মানুষের শহর দালিয়ান দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দালিয়ান ঝৌশুজি এয়ারপোর্ট প্রায় ১০০ বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে, যা পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হয় এবং অতীতে একাধিকবার এর সম্প্রসারণ হয়েছে। শহরটিতে ২০০৩ সালে নতুন বিমানবন্দরের জন্য স্থান নির্বাচন ও পরিদর্শনের কাজ শুরু হলেও প্রকৃত নির্মাণকাজ মাত্র কয়েক বছর আগে শুরু হয়। নতুন নতুন বিমানবন্দর চীনে উড়োজাহাজ চলাচল বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে বিশ্বের বৃহত্তম উড়োজাহাজ পরিষেবার বাজারে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। ২০১৯ সালে চীন সরকারের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, চাহিদা মেটাতে দেশে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫০টি বিমানবন্দরের প্রয়োজন। খবর ও ছবি সিএনএন